আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের পূর্ব প্রান্ত (বর্তমান বাংলাদেশ) এ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা নেতা ছিলেন হুসাইন শাহীদ সোহ্রাওয়ার্দি। সোহ্রাওয়ার্দি ও তার সহযোগিদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলাভাষী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। পাকিস্তান একটি সামরিক শাসনের তলায় ছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) মানুষের অনেক দূরবর্তী হয়ে পড়েছিল। এ সময় বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বেড়ে চলছিল।
আওয়ামী লীগের উদ্ভবের পেছনে মূলত দুইটি বড় কারণ ছিল। প্রথম, পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার পূর্ব পাকিস্তানের অধিবাসীদের অবহেলা করছিল। দ্বিতীয়, সংস্কৃতিগত ও ভাষাগত মিথস্ক্রিয়ার অভাব। এই সব অসন্তোষের ফলে একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা জন্মায় যা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের উপর ভিত্তি করে নতুন একটি দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে। এই দলটি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মূল সমস্যা ও প্রশ্নগুলি প্রত্যক্ষভাবে মুখ্য করতে চায়। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা এবং অধিকার অর্জন করা।
প্রতিষ্ঠার সময় আওয়ামী লীগ ভাষা আন্দোলন, অর্থনৈতিক অসমতা এবং রাজনৈতিক অধিকারের জন্য প্রচারাভিযান চালিয়ে যায়। এই প্রচারাভিযানের মাধ্যমে দলটি জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাদের মূল দাবি ছিল বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন গঠন। এটি ছিল একটি গণতান্ত্রিক দল যার উদ্দেশ্য ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষের অংশগ্রহণের বৃদ্ধি এবং দেশের যথাযথ উন্নয়ন।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মilestone। এর উদ্ভবের পেছনে মুখ্যত একটি স্বার্থের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পথপ্রদর্শক হিসেবে সেনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং এর সদস্যদের অনেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।