ঈদ উৎসব পালন একটি বড় আনন্দের মুহূর্ত। বাংলাদেশে ঈদ পালনের আগে থেকেই প্রস্তুতি চলে। প্রথমেই সবাই তাদের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে ঈদের প্রস্তুতির আলোচনা করেন। এরপর সবাই নিজ নিজ পরিবারের সাথে ঈদের পোশাক কিনতে বের হন, আবার কেউ কেউ নতুন পোশাক তৈরি করান। ঈদের রাতে তারকাদির দেখা পড়লে তার পরের দিন ঈদ উৎসব শুরু হয়। সকালে সবাই নামাজের আগে গোমালি করেন, নতুন পোশাক পরেন, আর ফুলের গন্ধ দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করেন।
ঈদের দিনে সকালে সবাই থানার মসজিদ বা ঈদগাহে ঈদ নামাজের জন্য যান। নামাজের পর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করা, আশীর্বাদ নেওয়া এবং সময় অতিবাহিত করার আয়োজন করেন। ঈদের দিনে পরিবারের সদস্যরা একত্র হয়ে চাঁদের দেখার প্রথা মেনে চলেন এবং হোটেল বা নিজ নিজ বাড়িতে বিশেষ ব্যঞ্জন তৈরি করেন। লুচি, কালিয়া, বেগুনভাজা, হালুয়া, সিদ্ধি আলু, মুরগি রোস্ট সহ অনেক বিশেষ ব্যঞ্জন ঈদের দিনে উপভোগ করা হয়। আবার কেউ কেউ স্বচ্ছন্দভাবে পার্ক, মৌজদার জায়গা বা নিকটবর্তী স্থানগুলোতে ঘুরে ফিরে আনন্দ নেন।
ঈদ উৎসবের অংশ হিসেবে বাচ্চাদের জন্য নানান রকমের খেলনা আর সুরকির আয়োজন করা হয়। আবার বড় ভাই-বোনরা ভাগ্নে-ভাগ্নীদের জন্য ঈদি দেন। পাড়া-প্রতিবেশীরা একে অপরের বাড়ি ঘুরে ফিরে খাবার আদান-প্রদান করেন। ঈদ উৎসবের দিনগুলোতে সমাজের সবাই একসাথে থাকার এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসার সুযোগ পান। এই উৎসবে সবাই পরস্পরের প্রতি দয়া, ভালোবাসা এবং সম্মানের অনুভূতি প্রকাশ করেন। ঈদ উৎসব পালনের মাধ্যমে মুসলিম সমাজের সদস্যরা ধর্মীয় নিয়ম ও প্রথা মেনে চলেন এবং নতুন শুরুর আশায় একে অপরের সাথে সম্পর্ক সুধার করার চেষ্টা করেন।