শেখ হাসিনার শৈশবে তাঁর জীবন পরিকল্পনা অনেকটা সাধারণ ছিল। তিনি একটি সাধারণ মধ্য শ্রেণীর পরিবারে জন্মেছেন যেখানে শিক্ষার মূল্য প্রচুর পরিমাণে ছিল। তাঁর পিতা, শেখ মুজিবুর রহমান, যদিও তখন বেশ একটু পরিচিত ছিলেন, তবে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক জীবনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা শেখ হাসিনার ছিল না। তাঁর প্রথম চাহিদা ছিল ভালো করে পড়াশোনা করা এবং একজন সাফল্যশালী পেশাদার হওয়া। তিনি ছিলেন খুব অধ্যয়নপ্রিয় এবং তাঁর মাতা তাঁকে সুন্দরভাবে শিক্ষিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন।
তাঁর শৈশবের অনেক সময়ে শেখ হাসিনা পরিবারের কাজকর্মে সাহায্য করতেন, তাঁর কন্যাদিদি বেগম রেহানা সহ তাঁর ভাইবোনদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বও তাঁকে পড়তো। এই সময়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ ও সহযোগী পরিবেশ তৈরি করার দিকে ঝukতেন, যা পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্ব শৈলীতে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর পিতার রাজনৈতিক জীবন এবং তাঁর স্বাধীনতা যুদ্ধের অবদান তাঁর চিন্তাপ্রক্রিয়া ও মূল্যবোধে প্রভাব ফেলেছিল, কিন্তু তাঁর শৈশবে তিনি প্রায় কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে সরাসরি যোগদান করেননি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যায়ে তাঁর পিতার হত্যার পর তাঁর জীবন বদলে যায়। এই ঘটনার পর তিনি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং তাঁর প্রাথমিক জীবন পরিকল্পনাগুলো পরিবর্তিত হয়। তাঁর লক্ষ্য হয়ে ওঠে তাঁর পিতার অনুপ্রেরণার উপর ভিত্তি করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশের মানুষকে ভালো জীবন করিয়ে তুলতে তাঁর নিজের জীবন উৎসর্গ করা। এইভাবে তিনি দেশের জন্য কাজ করার দিকে অগ্রসর হন, যা তাঁর প্রথম জীবন পরিকল্পনা থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।